নিজস্ব প্রতিবেদক
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে রোগী সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ঔষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অবাধ ঘোরাফেরা কারণে। নিয়ম অনুযায়ী, এসব প্রতিনিধির হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশের সময় সীমিত এবং দুপুর ১২টার আগে প্রবেশের অনুমতি নেই। কিন্তু তারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জরুরি বিভাগে ঘুরাঘুরি করছে, ডাক্তারদের চারপাশে ঘিরে রাখছে, প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলছে এবং আলাপচারিতায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।
ফলে ডাক্তারদের চিকিৎসা কাজে মনোযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে, রোগীদের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং জরুরি সেবা দিতে বিলম্ব ঘটছে।
একজন রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত হাসপাতালের ভেতরে অনেক অচেনা লোক ঘুরছে। কেউ প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলছে, কেউ ডাক্তারকে ঘিরে কথা বলছে। এতে আমাদের চিকিৎসা দেরি হয়, আর আমরা অস্বস্তিতে পড়ি।”
অন্য একজন রোগীর পরিবারের সদস্য আরও বলেন,আমরা জানি হাসপাতাল ব্যস্ত থাকে, কিন্তু এত ভিড় কখনো আশা করিনি। জরুরি সময়ে রোগীর সেবা পেতে গিয়ে অচেনা লোকজনের উপস্থিতি আমাদের মনে ভয় সৃষ্টি করছে।”
নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সজীব ঘোষ জানিয়েছেন,
আমরা একাধিকবার চিঠি দিয়েছি যাতে দুপুর ১২টার আগে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ না করা হয়। তবুও কিছু প্রতিনিধিরা নিয়ম মানছে না। বিষয়টি সমাধানে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য কঠোর নজরদারি চালাবো।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, জরুরি বিভাগে রোগীর সেবা ও গোপনীয়তা রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ জরুরি। তারা বলেন,
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত রোগীর সেবা। কিন্তু এই অনিয়ম চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে এবং হাসপাতালের প্রতি আস্থা কমে যাবে। প্রশাসনকে অবশ্যই সময় মতো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
স্থানীয়রা আরও দাবি করেছেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মেডিকেল প্রতিনিধিদের প্রবেশ ও ঘুরাফেরি নিয়ন্ত্রণ না করলে ভবিষ্যতে গুরুতর সেবা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা মনে করেন—সুষ্ঠু রোগী সেবা ও গোপনীয়তা রক্ষায় শৃঙ্খলা ফেরানো এখন সময়ের দাবি।