নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের অসংখ্য তরুণের ভিড়ে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের জীবনসংগ্রাম, অধ্যবসায় ও সাফল্যের গল্প অন্যদের জন্য হয়ে ওঠে অনুপ্রেরণার আলোকবর্তিকা। তেমনই একজন উদীয়মান তরুণ বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তা হলেন সাজ্জাদ হোসেন। তিনি প্রমাণ করেছেন—সীমাবদ্ধতা নয়, শিক্ষাই জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।সাজ্জাদ হোসেন জন্মগ্রহণ করেন কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার ধোপাহাটি গ্রামে, রাইটার বাড়িতে। তাঁর পিতা এ কে এম মমিন (মনু মিয়া) ও মাতা বাছিরুন নেছা। সাধারণ একটি পরিবারে জন্ম হলেও পরিবারে শিক্ষার প্রতি ছিল অগাধ শ্রদ্ধা ও দৃঢ় বিশ্বাস, যা তাঁর এগিয়ে চলার পথে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।শিক্ষাজীবনে ধারাবাহিক সাফল্য শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই মেধা ও পরিশ্রমের স্বাক্ষর রেখেছেন সাজ্জাদ হোসেন।২০১৫ সালে গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতন এন্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে এসএসসি এবং ২০১৭ সালে ঢাকা বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।পরবর্তীতে তিনি কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রসায়নে বিএসসি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে M.Sc in Chemistry & Chemical Technology বিষয়ে অধ্যয়নরত। তাঁর সেশন সামার–২০২৫।সংগ্রামের পথচলা ও উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা কলেজ জীবন থেকেই নিজের শিক্ষার খরচ নিজেই বহন করতে শুরু করেন সাজ্জাদ হোসেন। টিউশনি করার পাশাপাশি পিতার সঙ্গে পারিবারিক উদ্যোগ “দোলন কেমিক্যাল ওয়ার্কস”-এ যুক্ত হয়ে পড়াশোনা, ব্যক্তিগত ব্যয় এবং পরিবারের দায়িত্ব সামলান।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় মানসম্পন্ন দাঁতের মাজন “দন্তে দোলন দাঁতের মাজন” উৎপাদন করে তিনি একদিকে যেমন আত্মনির্ভরশীল হয়েছেন, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশীয় পণ্যের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।পেশাগত সাফল্য বর্তমানে সাজ্জাদ হোসেন দেশের একটি স্বনামধন্য মাল্টিন্যাশনাল প্রতিষ্ঠান ATLAS Cosmetic Ltd.-এ Executive Officer, Research & Development Chemist পদে কর্মরত রয়েছেন। একজন রসায়নবিদ হিসেবে কসমেটিকস গবেষণা ও উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা ভবিষ্যতে দেশের শিল্পখাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। জীবনের কঠিন অধ্যায় ২০২০ সালে মায়ের ইন্তেকালে সাজ্জাদ হোসেনের জীবনে নেমে আসে গভীর শূন্যতা। সেই দুঃসময়েও তিনি ভেঙে পড়েননি। বাবাকেই শক্তির উৎস করে সামনে এগিয়ে চলার দৃঢ় প্রত্যয় নেন। মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ করাই আজ তাঁর জীবনের অন্যতম লক্ষ্য।
অনুপ্রেরণার বার্তা সাজ্জাদ হোসেন বিশ্বাস করেন,
“আজ কষ্ট করলে আগামীকাল আলোর পথ নিজেই খুলে যায়।”তাঁর জীবনকাহিনী আমাদের শেখায়—দারিদ্র্য কখনো মেধাকে থামাতে পারে না। পরিশ্রম, ধৈর্য ও শিক্ষা থাকলে সাফল্য অবশ্যম্ভাবী।শেষ কথা গ্রাম থেকে রাজধানী, টিউশনি থেকে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির গবেষণাগার—সাজ্জাদ হোসেনের এই পথচলা সত্যিই অনুকরণীয়। তাঁর জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প দেশের হাজারো তরুণকে শিক্ষা, উদ্যোক্তা হওয়া ও আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে—এমনটাই প্রত্যাশা। সকলের কাছে তাঁর জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে।ইনশাআল্লাহ, সামনে আরও বড় সাফল্য তাঁর অপেক্ষায়।