হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার কুর্শা গ্রামের এক গর্বিত সন্তান তিনি — এ. হাসিম মোহাম্মদ। সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান হয়েও আজ তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে সম্মানের আসনে পৌঁছে দিয়েছেন। জাতিসংঘের সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর সদস্য হিসেবে কর্মরত থেকেও তিনি ভুলে যাননি নিজের শিকড়, নিজের গ্রামের গরিব-দুঃখী মানুষদের।
গ্রামের সন্তান থেকে জাতিসংঘ পর্যন্ত যাত্রা নিকলীর কুর্শা গ্রামে জন্ম নেয়া এ. হাসিম মোহাম্মদ কুয়েট থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯২ সালে উচ্চশিক্ষা ও মানবসেবার স্বপ্ন নিয়ে ইউরোপে পাড়ি জমান তিনি। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
এরপর জার্মানির একটি আমেরিকান ওষুধ কোম্পানি বোহরিংগার ইঙ্গেল-হেইমে টেকনিক্যাল ডিজাইনার হিসেবে কাজ করার পর অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অবস্থিত জাতিসংঘের সংস্থা IAEA-তে যোগ দেন তিনি। গত ৩৪ বছর ধরে তিনি ভিয়েনায় বসবাস করছেন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশকে মর্যাদার সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করে চলেছেন।
শিক্ষা ও মানবসেবায় অনন্য অবদান দেশে থাকাকালীন সময় থেকেই তিনি সমাজসেবায় যুক্ত ছিলেন। ১৯৯০ সালের আগেই বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নিবন্ধিত দাতব্য সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ইবনে তাইমিয়া আইডিয়াল দাখিল মাদ্রাসা আজ কুর্শা গ্রামের শিক্ষার অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এই মাদ্রাসায় প্রায় ১,০০০ থেকে ১,৫০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। অনেকেই অসচ্ছল পরিবারের সন্তান, যাদের জন্য রয়েছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষা— বই, খাতা, পোশাক, কলম পর্যন্ত সরবরাহ করেন তিনি নিজের অর্থে।
শুধু এই একটি প্রতিষ্ঠান নয়, তিনি আরও একটি ছোট মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন যেখানে গরিব শিশুরা ফ্রিতে পড়াশোনা করছে। তাঁর এই শিক্ষা উদ্যোগ হাওরাঞ্চলে আলোর বার্তা নিয়ে এসেছে।
দুর্যোগে পাশে, মানবতার জন্য জীবন উৎসর্গ
এ. হাসিম মোহাম্মদ শুধুমাত্র শিক্ষাবিদ বা প্রকৌশলী নন— তিনি একজন প্রকৃত মানবসেবক। শীত, বন্যা, কিংবা অন্য যেকোনো দুর্যোগে তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান নীরবে। কারও ঘর মেরামত করে দিয়েছেন, কারও সন্তানের পড়াশোনার খরচ দিয়েছেন নিজের সঞ্চয় থেকে।
স্থানীয় প্রবীণ মোঃ আবুল হোসেন বলেন,হাশেম সাহেব শুধু একজন দাতা নন, তিনি আমাদের গ্রামের আত্মার মতো মানুষ। বিদেশে থেকেও গ্রামের খবর রাখেন, গ্রামের মানুষের জন্য ভাবেন—এটাই আমাদের গর্ব।”
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা বর্তমানে তিনি অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অবস্থিত একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি Save Humanity Austria-এর চেয়ারম্যান এবং Eurasia Aid, Light for All, Human Aid, ও Altaf Nisa Foundation-এর প্রতিষ্ঠাতা। এসব সংগঠন বাংলাদেশ ও অস্ট্রিয়া উভয় দেশেই সামাজিক, মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।
তিনি একইসাথে অস্ট্রিয়ার ইসলামিক কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য —Supreme Council Member, Islamic Religious Authority (IGGÖ) (২০১৬–বর্তমান)
Chairman, Asian Islamic Community of Austria (২০১৬–বর্তমান)Director, Vienna Muslim & Cultural Center Al Falah
তাঁর মানবিক কাজের মূল দর্শন—সমাজের পরিবর্তন শুরু হয় শিক্ষা ও মানবসেবার মাধ্যমে।”
নিকলীর গর্ব, মানবতার আলোকবর্তিকা নিজের জ্ঞান, মেধা ও মানবপ্রেম দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন— বিদেশে থেকেও দেশের জন্য, গ্রামের জন্য কাজ করা সম্ভব। নিকলীর মানুষ আজ গর্বভরে বলে,আমাদের কুর্শার সন্তান এ. হাসিম মোহাম্মদ — মানবতার উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা।”