হাওরাঞ্চল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে নকল, ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনবিহীন ওষুধ, ফুড সাপ্লিমেন্ট, সরকারি ওষুধ এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি প্রতিরোধ ও ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়া (ADR) রিপোর্টিং বিষয়ে জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট ২০২৫) দুপুরে উপজেলার শিমূল কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ কেমিষ্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কেমিষ্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি নিকলী উপজেলা শাখার সভাপতি মো. সেলিম মিয়া এবং সঞ্চালনা করেন পল্লী চিকিৎসক সমিতি নিকলী শাখার সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন মানিক।
এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সজীব ঘোষ, ড্রাগ সুপার মেহেদী হাসান, বাংলাদেশ কেমিষ্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির কেন্দ্রীয় পরিচালক বাবু চন্দন কুমার পাল, জেলা শাখার সভাপতি ডা. মো. আব্দুল হাই, এবং পল্লী চিকিৎসক সমিতির সভাপতি ডা. আবু বকরসহ সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতীক দত্ত বলেন,
“নকল ও অনুমোদনবিহীন ওষুধ মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশাসন এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ফার্মেসি মালিকদের অবশ্যই আইন মেনে ওষুধ বিক্রি করতে হবে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ড্রাগ সুপার মেহেদী হাসান বলেন,
“অ্যান্টিবায়োটিক কোনোভাবেই প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি করা যাবে না। এ ধরনের অপব্যবহারের কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে। তাই ফার্মেসি মালিকদের এ বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।”উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সজীব ঘোষ বলেন,“ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তা দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জানাতে হবে। রোগীর জীবন রক্ষায় সঠিক তথ্য দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
কেন্দ্রীয় পরিচালক বাবু চন্দন কুমার পাল বলেন,
“ফার্মেসি ব্যবসায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যারা নিয়ম মেনে ব্যবসা করবে, সমিতি সবসময় তাদের পাশে থাকবে।”
জেলা শাখার সভাপতি ডা. মো. আব্দুল হাই বলেন,“ফার্মেসি মালিকদের অবশ্যই লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে। অনুমোদনবিহীন ওষুধ বিক্রি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। সমিতি এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকবে।”
উপজেলা শাখার সভাপতি মো. সেলিম মিয়া বলেন,নিকলী উপজেলায় কোনো ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেলে তা অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে। জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা আমাদের সবার দায়িত্ব।”