হাওরাঞ্চল (কিশোরগঞ্জ) |
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর সেই পার্বণের অন্যতম অনুষঙ্গ শীতের পিঠা। গ্রাম বাংলার এই চিরচেনা ঐতিহ্যকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় অবস্থিত আব্দুল জব্বার আইডিয়াল স্কুলে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী জমকালো ‘পিঠা উৎসব–২০২৬’।
২৫ জানুয়ারি সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক রকমের পিঠার ঘ্রাণ আর শিক্ষার্থীদের আনন্দ–উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো স্কুল ক্যাম্পাস।
উৎসবের মূল আকর্ষণ
এবারের উৎসবে শিক্ষার্থীরা মোট ৭টি সুসজ্জিত স্টল স্থাপন করে। এসব স্টলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পিঠার পসরা সাজানো হয়।
উৎসবে প্রদর্শিত উল্লেখযোগ্য পিঠাগুলোর মধ্যে ছিল—চিরায়ত পিঠা:ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, দুধ চিতই পিঠা, পাটিসাপটা পিঠা ও মালপোয়া।
নকশি ও শৌখিন পিঠা:নকশি পিঠা, জামদানি পিঠা, লবঙ্গ লতিকা, গোলাপ ফুল পিঠা ও বিবিয়ানা পিঠা।আঞ্চলিক ও বৈচিত্র্যময় পিঠা:
মেরা পিঠা, ক্ষীরকুলি, গোকুল পিঠা, ঝাল পিঠা, সুন্দরী পাকান, হাড়ি পিঠা ও ঝুরি পিঠা।
প্রায় শতাধিক পদের পিঠার এই সমারোহ দেখে আগত অতিথিরা মুগ্ধ হন। অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন স্বাদের পিঠা উপভোগ করেন এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
অতিথিবৃন্দ ও বক্তব্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোঃ শওকত রানা। তিনি বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক মোঃ হাবিব মিয়া, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তনিশা আক্তার, সরকারি শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিন, শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ শওকত রানা বলেন,
“যান্ত্রিকতার এই যুগে নতুন প্রজন্ম অনেক ঐতিহ্যবাহী পিঠার নামই জানে না। গ্রাম বাংলার এই লোকজ সংস্কৃতি ধরে রাখতেই প্রতিবছর আমরা এ ধরনের উৎসবের আয়োজন করি।”
শিক্ষার্থীরা জানায়, পাঠ্যবইয়ের বাইরে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পিঠা তৈরির পদ্ধতি ও নাম জানতে পেরে তারা দারুণ আনন্দিত। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে পিঠা উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।