নিকলী (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের আঠার বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে দীর্ঘ ১৭ বছর পর ফিরে এলো পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ। টানা দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতি বুধবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘অবৈধ’ গরুর হাট বসার কারণে কয়েক প্রজন্ম ধরে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। অবশেষে আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) যৌথ বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে অবসান ঘটলো এই দীর্ঘ ভোগান্তির।
বিগত ১৭ বছর ধরে প্রতি বুধবার বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে বসত বিশালাকার গরুর হাট। হাটের দিন তীব্র শোরগোল, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং শত শত বহিরাগত মানুষের আনাগোনার কারণে কোমলমতি শিশুদের পক্ষে ক্লাসে বসা অসম্ভব হয়ে পড়ত। কার্যত প্রতি বুধবার বিদ্যালয়টি অঘোষিতভাবে বন্ধ থাকত। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে আসছিল।
জানা গেছে, ২০২৫ সালে ৩ কোটি ৭১ লক্ষ টাকার বিশাল অঙ্কের বিনিময়ে এই হাটের ইজারা নিয়েছিলেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি আলী জমশেদ। তার প্রবল ক্ষমতার দাপটে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এমনকি অভিভাবকরাও এতদিন মুখ খোলার সাহস পাননি। ফলে দিনের পর দিন ব্যাহত হচ্ছিল শত শত শিশুর শিক্ষাজীবন।
আজ বুধবার দুপুরে যখন হাটের প্রস্তুতি চলছিল, ঠিক তখনই আকস্মিকভাবে সেখানে উপস্থিত হয় যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। এক বিশেষ অভিযানে মুহূর্তেই বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযান চলাকালীন মূল ইজারাদার আলী জমশেদ পালিয়ে গেলেও, হাটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আনোয়ার উদ্দিন নামে একজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। অবৈধভাবে হাট বসানোর দায়ে তাকে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান শেষে নিকলী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত সংবাদমাধ্যমকে বলেন:
“একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ দখল করে হাট বসানো সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনৈতিক। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এখানে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করা হচ্ছিল যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা খবর পাওয়ার পর যৌথ বাহিনীর সহায়তায় আজ মাঠটি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করেছি। ভবিষ্যতে এখানে আর কখনোই হাট বসতে দেওয়া হবে না।”
দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিদ্যালয়ের মাঠটি ফিরে পাওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বইছে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। স্থানীয় এক অভিভাবক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম আমাদের সন্তানরা বোধহয় কখনোই বুধবার স্কুলে যেতে পারবে না। আজ মাঠ মুক্ত হয়েছে, এটা আমাদের জন্য ঈদের আনন্দের মতো।”
বিদ্যালয়ের মাঠটি এখন থেকে শুধুমাত্র ছাত্র-ছাত্রীদের খেলাধুলা এবং সমাবেশের জন্য ব্যবহৃত হবে—প্রশাসনের এমন কঠোর নির্দেশনায় স্বস্তি ফিরেছে গোটা এলাকায়।